অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস

মজুদ এলএনজি বিক্রি করতে চাইছে চীনা কোম্পানিগুলো

চীনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে। তাই বাড়তি মজুদ কমাতে বিক্রির সুযোগ খুঁজছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বা ছোট আকারের জ্বালানি তেল-প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিগুলো।

চীনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে। তাই বাড়তি মজুদ কমাতে বিক্রির সুযোগ খুঁজছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বা ছোট আকারের জ্বালানি তেল-প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিগুলো। এ কোম্পানিগুলো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে এলএনজি সরবরাহের চেষ্টা করছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস।

শীতকালে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাধারণত এলএনজির চাহিদা বেড়ে যায়। তবে কোম্পানিগুলো জানায়, চলতি বছর তা না হলে এশিয়ার স্পট মার্কেটে দাম কমে যেতে পারে। যদিও ইউরোপে কিছুটা চাহিদা রয়েছে, যা দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ সংকটও তৈরি করতে পারে।

একটি বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, কিছু কোম্পানি স্পট মার্কেটে এলএনজি সরবরাহ করছে। কার্গোর খরচ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা আগের ক্রয়মূল্যের তুলনায় কম। তাই তাদের মুনাফা বেশি হচ্ছে।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত একটি জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি গত সপ্তাহে জানায়, উত্তর ও দক্ষিণ চীনে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানায়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় শীতকালীন আবহাওয়া খুব বেশি ঠাণ্ডা না হওয়ায় এলএনজির চাহিদা কমে গেছে। ফলে চীনের কোম্পানিগুলোর জ্বালানি পণ্যটির বিক্রি ও মজুদ সমন্বয় কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে চীনের এলএনজি আমদানিকারকরা তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল-ইনডেক্সড চুক্তির অধীনে কেনা এলএনজি আমদানি করেছিলেন। এখন স্পট মার্কেটে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছে। প্লাটস ৫ ডিসেম্বর জানুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে পূর্ব এশিয়ার এলএনজির বাজার আদর্শ জেকেএমের মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ ডলার ৯৮ সেন্ট নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে জ্বালানি তেল-ইনডেক্সড এলএনজি দাম প্রতি এমএমবিটিইউয়ে প্রায় ১১-১২ ডলার।

এদিকে চীন সরকারের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ কোম্পানিগুলোকে শীতকালীন সরবরাহ নিশ্চিত করার এটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নজরদারিও করা হবে। তাই অপেক্ষাকৃত ছোট কোম্পানিগুলো এলএনজি বেশি সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে।

অন্য এক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীনে এলএনজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। স্পট মার্কেটে বাড়তি মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা তুলে নিতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। সূত্র আরো জানায়, সাম্প্রতিক শীতকালীন আবহাওয়া চাহিদা বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত দীর্ঘ ছিল না।

তুলনামূলক ছোট প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিগুলো স্পট মার্কেট এলএনজি বিক্রি করার চেষ্টা করছে, তবে চাহিদার অভাবে খুব কমই বেচাকেনা হচ্ছে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারেও কম চাহিদার কারণে দাম কমে গেছে। স্থানীয় উৎসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না। সামগ্রিকভাবে চাহিদা বাড়তে আরো সময় লাগতে পারে। চীনা নববর্ষের পর চাহিদা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও